চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম মহানগরীর রাউজান উপজেলার কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬। দেবী দুর্গার আগমনে পূজামণ্ডপজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠেছে দক্ষিণ নালাপাড়ার পূজাপ্রাঙ্গণ। চট্টগ্রামের রাউজানে অসংখ্য পুজামন্ডপের মধ্যে এই রাউজান উপজেলার কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে পুজামন্ডপটি অন্যতম মনে করছেন এলাকাবাসী ও ভক্ত পুজারীরা।
রাউজান উপজেলার কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজাকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে এসে দেবী দুর্গার প্রতিমা দর্শন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা। মহা অষ্টমিতে পুজা উদযাপন কমিটি আলোচনা সভা ও ঢাকের বাদ্যের আয়োজন করেন। এসময় কমিটির সভাপতি প্রিয়তোষ মিন্টুর সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক তারেকশ্বর ধর এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা বিএনপি নেতা ও উত্তর জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব এম এ মান্নান , রাউজান উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অশোক বড়ুয়া, সমাজ সেবক সমিরন বড়ুয়া চৌধুরী, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য ও রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক রতন বড়ুয়া, রক্ষাকালী মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি প্রবাল কৃঞ্চ দে, অর্থসম্পাদক সনজিত ধর বাপ্পু, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক শ্রী অসীম পারিয়াল,দপ্তর সম্পাদক রনজিত দাশ,সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দে, উজ্জল ধর, অপু ধর,কার্তিক দাশ, রাজিব ধর , পিন্টু ধর , মিটুন ঘোষ,সুস্ময় চক্রবর্তী, অমিত পারিয়াল, সুজন ঘোষ প্রমুখ।
রাউজান উপজেলার কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ চট্টগ্রাম রাউজানে শারদীয় উৎসবের অন্যতম পরিচিত স্থান এই। দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে তুলে ধরছে। কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতিরও প্রতীক। এই সর্বজনীন আয়োজনেও সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের পূজা হয়ে উঠবে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির জয় এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনাই শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল বার্তা। কেরানীহাট শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে এই উৎসবও সেই প্রত্যাশা ।









